দু:খী দেশের অবস্থানে বাংলাদেশ

টিবিটি ডেস্ক
এ্যানা সাইমুম রীমা
প্রকাশিত: ২৭ মার্চ ২০২৪ ০২:১৩ এএম

ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেজ রিপোর্ট-২০২৪ অনুযায়ী সুখী দেশের অবস্থানে বাংলাদেশ সবচেয়ে অসুখী দেশ আফগানিস্তান থেকে মাত্র ১৪ ধাপ এগিয়ে। মানে আফগানিস্তান সুখের মানদণ্ডে সর্বশেষে গিয়ে ১৪৩ তম অবস্থান করেছে আর বাংলাদেশ ১২৯ তম। 

আফগানিস্তান, সর্বশেষ স্থান, স্কেলে সর্বনিম্ন সুখী (১.৭) এবং বাংলাদেশের স্কোর ৩.৯। 

গ্যালাপ ওয়ার্ল্ড পোল  প্রতিটি দেশে প্রায় ১,০০০ জন উত্তরদাতার উপর  বিভিন্ন বিষয়ে সমীক্ষা করে, যার মধ্যে একটি হল তাদের বর্তমান জীবনকে ০-১০ স্কেলে রেট দেওয়া।

সুখী দেশের প্রথম দিকে অবস্থান করছে ফিনল্যান্ড, ২য় অবস্থানে ডেনমার্ক, ৩য় আইসলেন্ড , ৪র্থ সুইডেন,  মধ্যপ্রাচ্য দেশ ইসরায়েল ৫ম অবস্থান করেছে। যথাক্রমে ফিনল্যান্ড, ডেনমার্ক, আইসল্যান্ড, সুইডেন এবং ইসরালের স্কোর ৭.৭,৭.৬,৭.৫,৭.৩ এবং ৭.৩।

ওশেনিয়া মহাদেশ অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড  ১০ম ও ১১ অবস্থান আছে।গড় স্কোর ৭.১ এবং ৭.০।

এশিয়া ও আফ্রিকা সুখী দেশ হিসেবে সবচেয়ে নিচে  অবস্থান।  তবে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ অসুখী বেশি ।২০২২ সালে বাংলাদেশ ছিল  ৯৪ তম এবং ২০২৪ সালে এসে ১২৯ তম।২০২২ থেকে  ২০২৩ এ দুবছরের ব্যবধানে পিছিয়েছে ৩৫ ধাপ।

বাংলাদেশের চেয়ে পাকিস্তান ২১ দাপ  এগিয়ে ১০৮ তম,ভারত ১২৬ তম এবং আফগানিস্তান সর্বশেষ  ১৪৩ তম অবস্থানে আছে। এশিয়া মহাদেশের মধ্যে সুখী দেশ হিসেবে  সবচেয়ে এগিয়ে সিঙ্গাপুর। সিঙ্গাপুর ৩০তম সুখী দেশ হিসেবে অবস্থান করছে। চায়না ৬০তম এবং জাপান ৫১তম। অন্যদিকে চীনের পাশ্ববর্তী দেশ তাউয়ান ৩১তম সুখী দেশ হিসেবে নিজেদের ধরে রেখেছে।

তবে শীর্ষ ২০-এ নতুন প্রবেশকারী দেশ রয়েছে—কোস্টারিকা এবং কুয়েত যথাক্রমে ১২ স্কোর ৭.০ এবং কুয়েত ১৩ তম স্কোর ৭.০।ইউক্রেন-রাশিয়া রক্তক্ষয়ী  যুদ্ধের মধ্যে ও  যথাক্রমে ওই দু'দেশ অবস্থান  ১০৫ ও ৭২ তম। 

Happiness is when what you think, what you say, and what you do are in harmony." -MAHATMA GANDH

ফিনল্যান্ড টানা ৭ম বারের মত সুখী দেশ হিসেবে নিজেকে ধরে রেখেছে।বরফাচ্ছন্ন দেশ হয়েও ফিনল্যান্ড বার বার নিজেদের সুখী দেশ হিসেবে প্রমান করতে সক্ষম হয়েছে। 

সুখী দেশের অবস্থানে নর্ডিক দেশ ও পূর্ব ইউরোপ এগিয়ে।অন্যদিকে সবচেয়ে প্রভাবশালী দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নেই প্রথম  দশটি দেশের মধ্যে বরং তারা পূর্বের চেয়ে পিছিয়ে গেছে । মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানি যথাক্রমে ২২ এবং ২৩ তম।কানাডা ১৫ ও ইংল্যান্ড ২০ তম সুখী দেশ হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। 

বরফাচ্ছন্ন দেশে হতাশার মাত্রা তীব্র থাকার কথা,যেখানে ঠিকভাবে সূর্যের আলোই পৌঁছে না।কঠিন প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়ে টিকে থাকতে।তারা তাদের এই প্রতিকূলতা জয় করেই সুখী দেশের অবস্থানে বার বার প্রথম হয়েছে। 

ফিনিশিয়দের সুখী হওয়া মূলমন্ত্র:

ফ্রাঙ্ক মার্টেলা, একজন ফিনিশ দার্শনিক এবং মনোবিজ্ঞানের গবেষকের মতে, ফিনিশের লোকেরা খুশি কারণ তাদের সম্প্রদায় এবং সম্পর্কের দৃঢ় অনুভূতি রয়েছে, অন্য লোকেদের জন্য ভাল কাজ করে এবং নিজেদের জন্য একটি স্পষ্ট উদ্দেশ্য খুঁজে পায়।

ফিনিশরা সমঅধিকারে বিশ্বাসী।দুর্নীতি,অপরাধের মাত্রা খুবেই কম।কেউ অপরাধ করলে তাকে সংশোধন করে নতুন জীবন উপহার দেওয়া হয়।প্রধানমন্ত্রীও জবাবদিহির উর্দ্ধে নয়। সবচেয়ে ধনী আর সবচেয়ে গরীব সবায় সমান সুযোগ -সুবিধা ভোগ করে।

চিন্তা -মত প্রকাশের স্বাধীনতা। সামাজিক নিরাপত্তা, শিক্ষা ফ্রী,স্বাস্থ্যসেবা ফ্রী(কোন কোন ক্ষেত্রে বছরে নামে মাত্র স্বাস্থ্যসেবা ফি পরিশোধ করতে হয়।

পৃথিবীর সেরা স্বাস্থ্য সেবা ফিনিসরা ভোগ করে। যানবাহন ফী ফ্রী।বেকার ভাতার ব্যবস্থা আছে।ফিনদের প্রায় বড় জনগোষ্ঠীরর নিজস্ব বাড়ি-ঘর নেই।বাড়ি-ঘর করার মাথা ব্যাথাও নেই।তারা সরকারের দেওয়া বাড়িতে থাকে।ফিনিশরা তাদের ইনকামে সন্তুষ্ট। 

ফিনরা সময়মত কাজ করে,অস্থিরতা বলতে ফিনদের মধ্যে নেই।তারা বন্ধুত্বপূর্ণ, সাহায্যকারী এবং দয়ালু।তাদের মধ্যে কোন প্রতিযোগিতা নেই।

স্বাধীনতায় বিশ্বাসী ধর্মীয় বিশ্বাসে তারা উদার, যে যে ধর্ম পালন করুক না কেন কোন বাঁধা নেই।কেউ হেজাব,পানজাবি, ধূতি কিংবা রোমানিয়া পোষাক পরলেও কোন প্রতিবন্ধকতা নেই।

হু এর মতে ফিনল্যান্ডে বাতাসে দূষণের ঘনত্ব কম।পরিষ্কার জল পান  এবং অর্গানিক খাবার খায় তারা।ফিনরা প্রকৃতির কাছাকাছি বসবাস করে।

সরকারের উপর রয়েছে তাদের অগাধ আস্থা।রয়েছে শক্তিশালী স্যােশাল সাপোর্ট ও নিরাপত্তা। ফিনিশ জনগন তাদের সিস্টেমে অনেক বেশি সুখী।বিশ্বের প্রথম সারির সিস্টেম চালু ফিনল্যান্ডে। ফিনিশ মায়েদেরকে বিশ্বের  শ্রেষ্ঠ মা বলা হয়। শিশুদের বেড়ে ওঠার জন্য ওদের কে সেরা দেশ বলা হয়।

৬টি সূচকে যাচাই করে সুখী দেশ নির্ধারন করা হয়।এই সূচকগুলো হলো—মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি), সামাজিক সমর্থন, সুস্থ জীবনযাপনের প্রত্যাশা, জীবনযাপনের বিভিন্ন ক্ষত্রে সিদ্ধান্ততা নেওয়ার স্বাধীনতা, উদারতা, দুর্নীতি। 

অর্থনীতৈক অসচ্ছলতা,রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা, দুর্নিপরায়নতা,ন্যায় বিচারের অভাব,সামাজিক অসহযোগিতা, অতি নিম্ন স্বাস্থ্য সেবা,নিত্যদ্রব্যর দাম আকাশ ছোঁয়া।ভোটের স্বাধীনতাও বাকস্বাধীনতা খর্ব করা অসুখী দেশের মূলমন্ত্র। 

জাতি হিসেবে যখন বিশৃঙ্খল,স্বার্থপর দুর্নিপরায়ন ও নিচু চিন্তার অধিকারি তখন একটি একটা দেশ সবকিছুতেই শেষ দিকে গিয়ে  অবস্থান করবে এটাই স্বাভাবিক। 

বায়ু দুষণে রেকিং এ ১ম, হেল্থ স্টাটাস নিয়ে স্টাডি করলে দেখা যায় মা ও শিশুর মৃত্যুহার কমিয়ে আনা এবং কিছু কমিনিকেবল ডিজেজ কমিয়ে এনে বাংলাদেশের একটা বড় অর্জন ।কিন্তুু বর্তমানে নন কমিনিকেবল ডিজিজ আকাশ ছোঁয়া।মানে প্রতি ঘরে ঘরে।শিক্ষা ব্যবস্থার বেহাল দশা। দুর্নিতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন।

এক বিংশ শতাব্দীতে  এসেও একটা জাতি মেরুদণ্ডহীন,পঙ্গু করে দেওয়া হচ্ছে। সভ্যতা থেকে আমরা বহুদূর বহুদূর। ঘর থেকে রাজনৈতিক মাঠ সব জাগায়  বিশৃঙ্খল চর্চা।একটা জাতিকে এর চেয়ে আর ভালো কি দিবে,এর চেয়ে ভালো আর কিবাই আশা করতে পারি আমরা।এখান থেকে বের হওয়ার কোন সদিচ্ছাও নেই।

এখনও বাংলাদেশ, আফগানিস্তান  অতিক্রম করতে পারেনি।তবে এভাবে চললে খুব দ্রুত অতিক্রম করে ফেলবে। মাত্র আর ১৪টা দেশ অতিক্রম করতে হবে।তবেই বাংলাদেশ  বিশ্বের সবচেয়ে অসুখী দেশ হিসেবে খেতাব পাবে।