একজন দুর্ধর্ষ ইউপি সদস্য আবদুল হক হাওলাদার

টিবিটি ডেস্ক
ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৩১ মে ২০২৪ ১২:০১ পিএম

ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা থানার অন্তর্গত নাসিরাবাদ ইউনিয়নে চর দুয়াইর গ্রাম অবস্থিত। এই গ্রামেই লিমা আক্তার বড় হয়ে উঠেন। তার বাবার নাম ফিরোজ হাওলাদার। কয়েক বছর পূর্বেই লিমার বিয়ে হয় একই গ্রামের সোবহান খান ওরফে সোহরাব খানের ছেলে সোহেল খানের সাথে। 

নদীর ভাঙ্গনের কবলে পড়ে সোহেলের বাড়িঘর। অভাব ও দূরাবস্থা দূর করতে সোহেল রেমিট্যান্স যোদ্ধা হিসেবে পাড়ি জমায় অন্য দেশের মাটিতে।  ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে এবং সোহেলের জমানো টাকা দিয়ে একটি বাড়ি করার স্বপ্ন  নিয়ে লিমা তার বাবার বাড়ির রাস্তার পাশে গত মার্চ মাসে ১৫ শতাংশ জমি ক্রয় করেন।  কিন্তু জমি ক্রয় করার পর দেখা দেয় বড় বিপত্তি। 

নাসিরাবাদ ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের  ইউপি সদস্য আব্দুল হক হাওলাদার ক্রয়কৃত জমিতে মাটি কাটতে গেলে বাধা দিতে শুরু করেন ৷ এক পর্যায়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, হুমকিধামকি দিতে থাকেন। 

চলতি মাসের ১৮ তারিখে বিচার শালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সালিশ বৈঠকে আব্দুল হকের কাছে নালিশী জমির কাগজপত্র দেখতে চাইলে কোন কাগজপত্র দেখাতে তিনি অপরাগতা প্রকাশ করেন । 

অন্যদিকে লিমার ক্রয়কৃত জমির  বিএস রেকর্ড খাজনা রশিদ সবই ঠিক ছিল। সালিশ বৈঠকে পাত্তা না পেয়ে আব্দুল হক হাওলাদারের  বড়  ছেলে ফরহাদ হাওলাদার প্রতিপক্ষকে শায়েস্তা করার জন্য  লোকজন ভাড়া করে নিয়ে আসে। বিশৃঙ্খলা বাড়তে থাকলে দ্রুত সালিস বৈঠক অমীমাংসিত ভাবে শেষ করা হয়। 

২২ শে মে বুধবার সকালে মাটি কাটতে গেলে পুলিশ এসে বাঁধা দেয়। জানতে চাইলে পুলিশ জানায় তাদের বিরুদ্ধে ১৪৪ ধারায় মামলা হয়েছে। নোটিশে দেখা যায় নালিশী যে বিএস দাগ দেওয়া হয়েছে, সে-ই দাগের সাথে লিমার ক্রয়কৃত জমির কোন মিল নেই। 

কিছুদিন আগেও ৭ ধারায় ১ টি  মিথ্যা মামলা লিমাদের বিরুদ্ধে দায়ের করে ইউপি সদস্য আবদুল হক হাওলাদার।

এভাবে আব্দুল হক হাওলাদার ক্রমাগত একের পর এক মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে  নিরীহ পরিবারটিকে হয়রানি করে আসছে। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়,  আব্দুল হক হাওলাদার এর পূর্বে তার ফুফু  নুরজাহানের  কাছ থেকে ২০ শতাংশ জমি কৌশলে  দলিল করে নেন এবং ঐ ২০ শতাংশের সাথে আরো ৬৪ শতাংশ জমির মোট ৮৪ শতাংশ জমি জবর দখল করে ভোগ করতে থাকে। নুরজাহান এর প্রতিবাদ করতে গেলে  তাকে প্রহার করে এবং  মেরে ফেলার হুমকি দেয়।

এমতাবস্থায়  ইউপি সদস্যর হাত থেকে নিস্তার পাওয়ার জন্য সোহেল খানের পরিবার প্রশাসনের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন।

আরো খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আব্দুল হক হাওলাদার এর আরো একজন ফুফু ফটিকজান যার একমাত্র ছেলে মোঃ আলাউদ্দীন চাকরির সুবাদে চট্টগ্রাম থাকতো।

সেই সুযোগে আব্দুল হক হাওলাদার এবং তার ভাই নূর হক হাওলাদার এক বিঘা জমি নিজেদের নামে রেকর্ড করে এবং জোর জবরদস্তি করে ভোগদখল করতে থাকে। মোঃ আলাউদ্দীন জীবিত থাকা অবস্থায় তার কাছ থেকে বাৎসরিক দুই হাজার টাকা বিনিময়ে ১৯ শতাংশ জমি আব্দুল হক হাওলাদার বর্গা নেয় কিন্তু মোঃ আলাউদ্দীন এর মৃত্যুর পর সেই জমি তার বলে দাবি করে অথচ সেই জমির রেকর্ড এবং বৈধ কাগজপত্র সবকিছুই মোঃ আলাউদ্দীন এর পূর্ববর্তী ও পরবর্তীদের নামে।

বর্তমানে আলাউদ্দীনের ওয়ারিশগণ তার কাছে পাওনা ২০ বছরের ৪০,০০০  টাকা চাইতে গেলে সে হুমকি ধামকি দিতে থাকে এবং বলতে থাকে বাকি জমিগুলো জোর করেই সে দখল নিয়ে নিবে।

নাসিরাবাদ ইউনিয়নের চরদুয়াইর গ্রামে ঘুরে অনেকের সাথে কথা বলে জানা যায়, আব্দুল হক হাওলাদার ইউপি সদস্য হয়েছেন প্রায় আড়াই বছর। এই সময় তার বিরুদ্ধে অনেক বিষয় এ অভিযোগ পাওয়া যায়। বয়স্ক ভাতা কার্ড করার জন্য মাথাপিছু পাঁচ থেকে সাত হাজার টাকা নেন বলে অনেকের অভিযোগ আছে। 

এছাড়া এলাকার অনেকেই ভয়ে তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পান না।