বাংলাদেশের হার

তৃতীয় ম্যাচে সিরিজের মীমাংসা

টিবিটি ডেস্ক
টিবিটি রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১৫ মার্চ ২০২৪ ০১:১৭ পিএম

চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে আজ শুক্রবার দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচে শঙ্কা কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত সৌম্য সরকার ও তাওহিদ হৃদয়ের ব্যাটে ভর করে তিনশর কাছাকাছি পুঁজি পায় বাংলাদেশ (২৮৬/৭)। অবশ্য রাতের শিশিরে ভেজা উইকেট ও আউটফিল্ডে এই রান পুঁজি করে জিততে পারেনি নাজমুল হোসেন শান্তর দল। ৩ উইকেটের জয়ে সিরিজে সমতা এনেছে সিংহলিজরা।

৪৩ রানের মধ্যে আভিস্কা ফার্নান্দো, কুশল মেন্ডিস ও সাদিরা সামারাবিক্রমাকে সাজঘরে ফিরিয়ে জয়ের আশা জাগায়  বাংলাদেশ। এরপর পাথুম নিশাঙ্কা ও চারিথ আসাঙ্কার ১৮৩ বলে খেলা ১৮৫ রানের অনবদ্য পার্টনারশিপ ম্যাচের গতিপথ পাল্টে দেয়। নিশাঙ্কা ১১৩ বলে ১১৪ ও আসালঙ্কা ৯৩ বলে ৯১ রান করেন। তারা দুজনই দলীয় ২৩৫ রানের মধ্যে আউট হয়ে গেলে খানিকটা আশা জাগে বাংলাদেশের।

যদিও ওভারপ্রতি পাঁচেরও নিচে রান প্রয়োজন ছিল বলে শ্রীলংকা ঠিকই লক্ষ্যে পৌঁছে যায়। অলরাউন্ডার ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা ডি সিলভা (২৫) ও দুনিত বেলালাগের (১৫*) ব্যাটে ভর করে শেষ পর্যন্ত ১৭ বল ৩ উইকেট হাতে রেখে জয় তুলে নেয় অতিথিরা (২৮৭/৭)। এই জয়ে সিরিজে ১-১-এ সমতায় ফিরল কুশল মেন্ডিসের দল।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশ শূন্য রানে লিটন দাসকে হারানোর পর সৌম্য, শান্ত ও তাওহিদের ব্যাটে ভর করে একশ পেরোয়। সৌম্য ৬৮ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে সাজঘরে ফিরে যান। দ্রুত আউট হন মাহমুদউল্লাহও। তখন আবার অনিশ্চয়তা। এরপর তাওহিদ হৃদয়ের অনবদ্য ব্যাটিং দলকে এনে দেয় তিনশর কাছাকাছি পুঁজি। ১০২ বলে ৩ চার ও ৫ ছক্কায় ৯৬ রানের অসাধারণ এক ইনিংস খেলেন তাওহিদ। এছাড়া সৌম্য ৬৬ বলে ১১টি চার ও ১ ছক্কায় ৬৮ রান করেন। অধিনায়ক শান্তর ব্যাট থেকে আসে ৩৯ বলে ৪০ রান। হাসারাঙ্গা ডি সিলভা ৪৫ রানে ৪টি ও দিলশান মদুশঙ্কা ৩০ রানে ২টি উইকেট নেন।     

টানা দ্বিতীয় ম্যাচে শূন্য রানে ফিরে যান লিটন। মদুশঙ্কার বলে স্কয়ার লেগে দুনিত বেলালাগেকে ক্যাচ দেন তিনি। তার আউটের পর স্কোরবোর্ডের চিত্রটা বিভীষিকাময় হতে পারতো। ১ রানে ২ উইকেট হারাতে পারতো বাংলাদেশ। পেসার প্রমোদ মদুশানের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে স্লিপে ক্যাচ তুলে দেন শান্ত। পাথুম নিশাঙ্কা ক্যাচটি তালুবন্দি করতে পারেননি। একই ওভারে বাংলাদেশ অধিনায়ক কট বিহাইন্ড হয়েছিলেন, যদিও লংকানদের কেউ আপিল করেননি। ফলে একই ওভারে দুবার জীবন পান তিনি। প্রথমে শূন্য রানে, পরে ১০ রানে।

দুবার জীবন পেয়ে সৌম্যকে নিয়ে ৭২ বলে ৭৫ রনের দারুণ এক জুটি গড়েন শান্ত। ১৩তম ওভারে মদুশঙ্কার শিকার হন। উইকেটকিপার কুশল মেন্ডিস ঝাপিয়ে পড়ে দুর্দান্ত এক ক্যাচ নেন তার।

এরপর তাওহিদকে নিয়ে ৫৪ বলে ৫৫ রানে দারুণ এক জুটিতে দলের রান একশ পার করান সৌম্য। ২০তম ওভারে হাসারাঙ্গা ডি সিলভাকেকে টানা দুটি চার মেরেছেন সৌম্য, এর প্রথমটিতে ক্যারিয়ারে ২ হাজার রান পূর্ণ হয়েছে তাঁর। পরের ওভারে লাহিরু কুমারাকে আপার কাটে মেরেছেন ম্যাচের প্রথম ছক্কা। ওই শটে হৃদয়ের সঙ্গে ৫০ রানের জুটি হয়ে গেছে সৌম্যর।

হাসারাঙ্গাকে সুইপ করে চার মেরে ৫২ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন সৌম্য। এটি তার ক্যারিয়ারে ১২তম ফিফটি, শ্রীলংকার সঙ্গে দ্বিতীয়।

বাংলাদেশের হয়ে ওয়ানডেতে দ্রুততম ২ হাজার রান করলেন সৌম্য সরকার। আজ চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে শ্রীলংকার বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচে ফিফটি করার মধ্য দিয়ে দুই হাজার রানের ক্লাবে নাম লেখান সৌম্য। এ পথে তিনি খেলেছেন ৬৪ ইনিংস। এছাড়া শাহরিয়ার নাফীস ৬৫ ইনিংসে, লিটন কুমার দাস ৬৫ ইনিংসে, সাকিব আল হাসান ৬৯ ইনিংসে, তামিম ইকবাল ৭০ ইনিংসে দুই হাজার রান করেন। অবশ্য সৌম্যর চেয়ে দ্রুতগতিতে দুই হাজার রান করেছেন ৮১ রান।

হাসারাঙ্কার বলেই সৌম্যর ইনিংসের সমাপ্তি ঘটে। রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে ডিপ ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে মদুশঙ্কাকে ক্যাচ দেন তিনি। এক বল পরেই নতুন ব্যাটার মাহমুদউল্লাহকে স্ট্যাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলেন হাসারাঙ্গা।

এরপর বাকিদের নিয়ে লড়ে যান তাওহিদ। তিনি মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে ৪৩, মেহেদী হাসান মিরাজকে নিয়ে ১৬, তানজিম হাসান সাকিবকে নিয়ে ৪৭ ও তাসকিন আহমেদকে নিয়ে ৫০ রানের জুটিতে দলের রান তিনশর কাছাকাছি নিয়ে যান। ওয়ানডেতে নিজের প্রথম সেঞ্চুরিরর সম্ভাবনা জাগিয়েও অল্পের জন্য পারেননি তাওহিদ।

প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে টস জিতেও আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় শ্রীলংকা। যদিও রাতের শিশির বাংলাদেশের ব্যাটারদের রান তাড়ার কাজটি সহজ করে দেয়। আজ তাই টস জিতে কোনো দ্বিধা না করেই আগে বোলিং বেছে নিয়েছে সফরকারীরা।  তার ফলও পেলেন।

প্রথম ম্যাচে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুশফিকুর রহিমের যুগলবন্দিতে ৬ উইকেটের অসাধারণ এক জয় তুলে নিল বাংলাদেশ। ২৫৬ রানের টার্গেট বাংলাদেশ ছুঁয়েছে ৩২ বল হাতে রেখে। শান্ত করেন ১২২ রান রান।

সোমবার সিরিজের মীমাংসা হবে এই চট্টগ্রামেই।